1. admin@bbcnews24.news : admin :
উপকূল সেবায় একদল নিরবিচ্ছিন্ন তরুণ ~ BBC NEWS 24
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
অলংকারে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক সহ ০২ জন নিহত নগরীতে গাঁজাসহ মোটরসাইকেল চালক মিজান আটক বরিশালে সকল নৌযান চলবে রেজিষ্ট্রেশনে অংশীদার হবো দেশ উন্নয়নে নলছিটিতে বিপুল পরিমান ভ্যাসাল জাল জব্দ সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম শিমরাইল মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান পাট উচ্ছেদ অভিযান নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় টাকা উদ্ধার সহ গ্রেপ্তার ৩ বরকল উপজেলায় অস্ত্র বিহীন ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্টান অনুষ্ঠিত মাটিরাঙ্গার সাম্প্রায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে রাজনীতিতে অহংকার ও সন্ত্রাসী করলে আওয়ামী লীগের ভোট বাড়বে না সভাপতি আনোয়ার হিমছড়ি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সভাপতি নির্বাচিত হলেন এডভোকেট আয়াছুর রহমান

উপকূল সেবায় একদল নিরবিচ্ছিন্ন তরুণ

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • সময় : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩২ বার পঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ বাসা রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের হাইস্কুলের পিছন দিকের ভাড়াটিয়া। বয়স ২০ এর কোঠায়। বাবা ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী। মা, বড় বোন ও ছোট ভাই সহ মোট পাঁচজনের অভাবের সংসার তাদের। বড় বোন উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে জেলা শহরের পড়াশোনা করলেও জোটেনি চাকরি, বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। ছোট ভাই হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং সাইফুল ইসলাম সায়েম, তিনি পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি বিভাগে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সবমিলিয়ে বাবা-মা-ভাই-বোনসহ পাঁচজনের সংসার কোনোরকম চলে যাচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম সায়েমের ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল, দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার। এ কারনেই তিনি স্কুলজীবন থেকেই স্কাউটিং, জাগ্রত তারুণ্য, ধ্রুবতারা ইয়ূথ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বিডি ক্লিন সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং সেবামূলক কাজ শুরু করেন। কিন্তু এসব সংগঠনের মাধ্যমে তার প্রকৃত স্বপ্ন ও ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায়। নিজেই সংগঠন তৈরির উদ্যোগ নেন, এলাকায় যুব গোষ্ঠীকে নিয়ে। এরই ধারাবাহিকতার প্রয়াসে সৃষ্টির অগ্রযাত্রায় রূপ নেয় একটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন। একদল নিরবিচ্ছিন্ন যুবক একই ছালাতলে এনে কল্যাণধর্মী কার্য বাস্তবায়ন ও মানবতার সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ এই প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয়ে এবং সংগঠনের প্রাণশক্তি হলো অদম্য, প্রাণচঞ্চল যুবশক্তি এই বিষয়টিকে চিহ্নিত করে সামনে রেখে কিছু সংখ্যক যুবগোষ্ঠী সাংগঠনিক প্রঙ্ঘা সমন্বিত করে ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধানের সাথে সংগতি রেখে ২০২০ সালের ২৫ শে অক্টোবর উপকূল সেবায় ইতিবাচক পথে মানবতার সাথে ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ নামে খুলে ফেলেন একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন।

লেখাপড়ার পাশাপাশি এই সংগঠনের মাধ্যমে জনগণের সেবা দিতে সর্বদা নিয়োজিত থাকেন সায়েম। এভাবে দেশের দুর্ভোগ ও ক্রান্তিলগ্নে ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করে একের পর এক রাঙ্গাবালীর জনসাধারণের কাছে সুপরিচিত এবং প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছে সর্বমহলে এই শিক্ষিত বেকার তরুণ।

প্রাণঘাতী করোনা মহামারীতে মানুষ যখন দিশেহারা। আপন হয়ে যাচ্ছে পর, চেনা মানুষ যখন হচ্ছে অচেনা এবং প্রিয় মানুষটি হয়ে যাচ্ছে অপ্রিয়, ঠিক তখন ও অন্যান্য দেশপ্রেমিকদের মত রাঙ্গাবালীর অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে সমাজের বিত্তশালী লোকদের কাছে হাত পেতে আর্থিক অনুদান এনে পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন। সব ডর-ভয়কে পদদলিত করে এগিয়ে এসেছেন আর্ত মানবতার সেবায়।

করোনা মহামারী মোকাবেলায় জীবনের ঝুঁকি থাকলেও নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নেতৃত্বে শুরু করেছেন মানুষের কল্যাণে কাজ। মাইকিং করে জনসাধারণের মাঝে সর্তকতা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নেতৃত্বে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। এমনকি মাহে রমজানে অসহায় ও দরিদ্র রোজাদারদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা ছিল তাদের প্রধান কাজ। আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে নিজেকে গর্বিত মনে করছে পটুয়াখালীর ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের উদীয়মান তরুণরা। এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে দিয়ে রাঙ্গাবালীর অসহায় ও দরিদ্র মানুষ স্বস্তি ও শান্তি পেয়েছে এবং মেটাতে পেরেছে তাদের তারণা।

২০২০ সালের ৮ মার্চ যখন বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস কেভিড-১৯ শনাক্ত হয় এবং করোনার প্রদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ঠিক তখন থেকেই রাঙ্গাবালীর স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি ’রাঙ্গাবালীবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন মানুষের কল্যাণে। ‘করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি’ — এই উপলব্ধি সব মানুষের কাছে পৌছে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নেতৃত্বে রাস্তায় নেমে পড়েন হ্যান্ডমাইক নিয়ে উপজেলা সদরের অলিগলিতে। দিনরাত মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকার প্রচারণা করেও ক্ষান্ত হননি ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের তরুণরা। শুরু করেন পাড়া-মহল্লায় জীবাণুনাশক স্প্রে ও মাস্ক বিতরন কর্মসূচী। এভাবেই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এই সংগঠনটি। ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে তিনি উপকূল সেবায় ইতিবাচক পথে কাজ করেছেন দিবারাত্র।

স্থানীয়রা জনান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ যেসব ভূমিকা রাখছেন। সেগুলো আমাদের জন্য সমাজের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। ‘রাঙ্গাবালীবাসী’ সংগঠনের মত আমরা যদি সবাই এই ভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করি তাহলে দেশটা সত্যিই সোনার বাংলায় পরিণত হবে। আমার রাঙ্গাবালীবাসীর প্রতিষ্ঠাতা সায়েমকে সেলুট জানাই।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মু. সাইদুজ্জামান মামুন খান বলেন, রাঙ্গাবালীবাসী সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে সমাজের জন্য ইতিবাচক আয়োজন করে থাকে যা আমাদের খুব ভালো লাগে। চলমান করোনা মহামারি, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। তারা সমাজের জন্য কাজ করছে। তাদের প্রতি আমার ভালবাসা থাকবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, রাঙ্গাবালীবাসী সংগঠনটি আমার কাছে খুব পরিচিত। কারণ তারা উপকূল সেবায় ইতিবাচক পথে কাজ করেছে। তাদের পাশে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন সবসময় আছে এবং থাকবে। জয় হোক রাঙ্গাবালীবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ বিবিসি নিউজ ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD