1. admin@bbcnews24.news : admin :
কেন ঝাপসা করে রাখা হয়েছে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের গুগল ম্যাপ - BBC NEWS 24
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বকশীগঞ্জ বিপুল সংখ্যক কর্মীসমর্থক নিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন -মেয়র নজরুল পরিকল্পনা মন্ত্রীর নির্দেশে নান্দাইলে যানজট নিরসনে উচ্ছেদ হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হালুয়াঘাটে আ.লীগ নেতাকর্মীদের সাথে আনন্দ উৎসব ও মতবিনিময় মেলান্দহে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড আয়োজনে মতবিনিয়ন সভা অনুষ্ঠিত হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান এর মতবিনিময় ভালুকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিসে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ মিরসরাইয়ে দুই ইটভাটাকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা ভালো বই যে কোন সময় যে কোন মানুষকে আমূল বদল দিতে পারে : আর.সি.পাল শেরপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৯ শিক্ষককে অব্যাহতি, ২০ পরীক্ষার্থী বহিস্কার

কেন ঝাপসা করে রাখা হয়েছে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের গুগল ম্যাপ

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • সময় : মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১
  • ৩৯৫ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্কঃ ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গা গুগল ম্যাপে ঝাপসা করে রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনি অঞ্চল গাযার ওপর সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টির প্রতি আবারও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গবেষকরা।

সাধারণত, কোনো এলাকায় যখন এরকম হামলা হয়, তখন ঠিক কোথায় হামলাটি হয়েছে, বাড়িঘর কতটা ধ্বংস হয়েছে, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- সেসব জানার জন্য গবেষকরা গুগল ম্যাপের ওপর অনেকখানি নির্ভর করেন। এর পাশাপাশি তারা অন্যান্য উন্মুক্ত সূত্র থেকে এবং প্রকাশ্যে যেসব তথ্য ইতোমধ্যে পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করেন। কিন্তু গুগল ম্যাপে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় স্যাটেলাইটে তোলা কম-রেজল্যুশনের ছবি দেওয়া আছে। অথচ স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এর চেয়ে আরও অনেক হাই-রেজল্যুশনের ছবি পাওয়া যায়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, গুগল আর্থের বর্তমান ছবিতে গাযার রাস্তায় এমনকি একটি গাড়ি পর্যন্ত দেখা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এর সঙ্গে তুলনা করলে, উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোর গোপনীয়তার দেশের রাজধানী শহর পিয়ং ইয়ং পর্যন্ত গুগল আর্থে পরিষ্কার দেখা যায়। সেখানে রাস্তায় চলা গাড়ি তো বটেই, এমনকি রাস্তার প্রতিটি মানুষকে পর্যন্ত আলাদা করে দেখা সম্ভব।

স্যাটেলাইটের এসব ছবি যে কারণে এত গুরুত্বপূর্ণ: বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ বা সংঘাতের খবর বা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটে তোলা ছবি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব ছবিতে যদি খুব স্পষ্টভাবে খুঁটিনাটি সবকিছু দেখা যায়, সেটি সামরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

ইসরায়েল এবং গাযার মধ্যে যে সর্বশেষ সংঘাত শুরু হয়েছে, সেখানে দু’পক্ষ পরস্পরের দিকে বিভিন্ন ভবন এবং স্থাপনা লক্ষ্য করে যেসব বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তদন্তকারীরা সেসব হামলার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাইছেন স্যাটেলাইটের ছবি দেখে। কিন্তু গুগল আর্থে গাযার বেশিরভাগ ছবি খুবই কম রেজল্যুশনের এবং ঝাপসা।

বেলিংক্যাট নামের একটি সাইটের সাংবাদিক এরিক টোলার এক টুইটে লিখেছেন, ‘গুগল আর্থে সবচেয়ে সাম্প্রতিক ছবি হচ্ছে ২০১৬ সালের এবং সেগুলো একেবারেই বাজে। আমি এলোপাথাড়ি সিরিয়ার কিছু গ্রামাঞ্চলের ওপর জুম করেছিলাম, সেখানে পর্যন্ত ২০১৬ সালের পর বিশটির বেশি ছবি দেয়া আছে, আর সমস্ত ছবি বেশ হাই-রেজল্যুশনের।’

গুগল বলছে, তারা খুব ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর বেলায় নিয়মিতভাবেই নতুন ছবি যোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু গাযার বেলায় সেটা মোটেই করা হয়নি।

উচ্চ রেজল্যুশনের ছবিতে যা পাওয়া যায়: গত বছর পর্যন্ত ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের কী মানের স্যাটেলাইট ছবি মার্কিন কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরবরাহ করতে পারবে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের বিধিনিষেধ ছিল। মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ সংক্রান্ত আইনটি করা হয়। কাইল-বিংগাম্যান অ্যামেন্ডমেন্ট (কেবিএ) নামের একটি আইনে এটি লেখা আছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ কর্মসূচির প্রধান আমনন হারারি গতবছর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমরা সবসময় চাই আমাদের সবচেয়ে কম রেজল্যুশনের ছবি যেন দেওয়া হয়। আমরা সবসময় চাই ছবিতে যেন আমাদের খুব পরিষ্কারভাবে দেখা না যায়, যেন একেবারে ঝাপসা দেখায়।’

কেবিএ নামের আইনটির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েল বা ফিলিস্তিনি এলাকার কেবল কম রেজল্যুশনের ছবিই বিক্রি করতে পারে, যার পিক্সেলের সাইজ কোনোভাবেই দুই মিটারের (সাড়ে ছয় ফুট) কম হতে পারবে না। এর মানে হচ্ছে একটা গাড়ির সাইজের বস্তু ছবিতে কোনমতে ঠাহর করা যাবে মাত্র, এর বেশি নয়।

সামরিক ঘাঁটিগুলোর ছবি ঝাপসা করে দেয়ার নজির বিরল কোন ঘটনা নয়। কিন্তু কেবিএ হচ্ছে এধরনের একমাত্র আইন, যার বলে একটি পুরো দেশকে ঝাপসা করে রাখা হয়েছে। এই আইনে কিন্তু কেবল ইসরায়েলের কথা বলা আছে, অথচ ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোর বেলাতেও এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

কিন্তু মার্কিন কোম্পানির বাইরে আরও অনেক কোম্পানি এখন স্যাটেলাইটে তোলা অতি উচ্চমানের ছবি সরবরাহ করতে পারে, যেমন ফরাসি কোম্পানি এয়ারবাস। এর ফলে বেশি রেজল্যুশনের ছবি বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে।

গত বছরের জুলাই মাসে কেবিএ নামের আইনটি বাতিল করা হয়, এবং এর ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সেদেশের কোম্পানিগুলোকে ইসরায়েল এবং ঐ অঞ্চলের বেশি রেজল্যুশনের ছবি সরবরাহ করতে দিচ্ছে (এখন প্রতিটি পিক্সেলের সাইজ ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ছোট হতে পারবে, ফলে একজন মানুষের অবয়বও ছবিতে দেখা যাবে।)

ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের স্যাটেলাইট ছবির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য সফল প্রচারণা চালান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং শিক্ষক মাইকেল ফ্রাডলি। তিনি জানান, তারা মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যই এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পে আমরা একটা ধারাবাহিক তথ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করতে চাইছিলাম। কাজেই অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকার খুব উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি আমাদের দরকার ছিল, যা আমরা তুলনা করতে পারি সেই অঞ্চলের অন্য কোন এলাকার সঙ্গে।’

গাযার ছবি যে কারণে এত ঝাপসা: গুগল জানিয়েছে, তাদের ছবিগুলো অনেক ধরনের সরবরাহকারীর কাছ থেকে আসে এবং ‘যখন বেশি রেজ্যুলেশনের ছবি পাওয়া যায়, তখন তারা তাদের ম্যাপে সেগুলো দেয়ার সুযোগ বিবেচনা করে। তবে,এই মূহূর্তে এরকম ছবি শেয়ার করার কোন পরিকল্পনা তাদের নেই।’

বেলিংক্যাট ওয়েবসাইটের একজন ওপেন-সোর্স অনুসন্ধানী গবেষক নিক ওয়াটার্স এ নিয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘বর্তমান ঘটনাবলীর গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না, কেন এই এলাকার ছবিগুলো ইচ্ছে করে নিম্নমানের করে রাখা হবে।’

এসব ছবি আসলে যারা তোলে: গুগল আর্থ বা অ্যাপল ম্যাপসের মতো প্ল্যাটফর্ম তাদের স্যাটেলাইট ছবির জন্য নির্ভর করে সেসব কোম্পানির ওপর, যারা এই স্যাটেলাইটগুলোর মালিক। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুটি কোম্পানি হচ্ছে ম্যাক্সার এবং প্ল্যানেট ল্যাবস। এই দুটি প্রতিষ্ঠান এখন ইসরায়েল এবং গাযার বেশ উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সরবরাহ করছে।

ম্যাক্সার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মার্কিন আইনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর ইসরায়েল এবং গাযার ছবি এখন শূন্য দশমিক ৪ মিটার (৪০ সেন্টিমিটার) রেজল্যুশনে সরবরাহ করা হচ্ছে।’

আর প্ল্যানেট ল্যাবস জানিয়েছে, তারা এখন ৫০ সেন্টিমিটার রেজল্যুশনের ছবি সরবরাহ করে। কিন্তু যারা ওপেন-সোর্স বা উন্মুক্ত সূত্র থেকে সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান চালান, তারা খুব বেশি নির্ভর করেন বিনামূল্য ব্যবহার করা যায় এমন ম্যাপিং সফটওয়্যারগুলোর ওপর। কাজেই উচ্চ মাত্রার রেজ্যুলেশনের ছবি তারা চাইলেই সরাসরি পান না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ বিবিসি নিউজ ২৪
Theme Customized BY Shakil IT Park