1. admin@bbcnews24.news : admin :
তক্ষশিলা বন বিহারের ৯ম তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান সম্পন্ন - BBC NEWS 24
বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গিটার পাগল রোমো রোমিওর এগিয়ে চলা গাজীপুরে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার এক মীরসরাইয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ মিরসরাইয়ের মঘাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মীরসরাইয়ে আরশিনগর ফিউচার পার্কে ৮ দিনব্যাপী লালন ও বাউল উৎসব শুরু বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে পিজিতের মিউজিক্যাল ফিল্ম”ভুল” বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৪বছর পূর্তি উপলক্ষে দিবসটি পালন করলো লংগদু সেনা জোন ৫ মাসের অপহৃত শিশু উদ্ধার- আসামী গ্রেফতার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য যুবলীগ নেতা নোবেলের শুভ কামনা পার্বত্য চুক্তির দুইযুগ পূর্তি: পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কাঙ্খিত শান্তি ফিরেনি

তক্ষশিলা বন বিহারের ৯ম তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৬৫ বার পঠিত

তুফান চাকমা, নানিয়ারচর প্রতিনিধিঃ- গৌতম বুদ্ধের প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নানিয়ারচরের তক্ষশিলা বন বিহারে দুইদিন ব্যাপী ৯ম তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) তক্ষশিলা বন বিহারের বেইন ঘর সুতা কেটে শুভ উদ্ভোদন করেন তক্ষশীলা বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ করুনাবদ্ধন মহাস্থবির। এময় পূজনীয় ভিক্ষু সঙ্ঘের উপস্থিতিতে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন সমবেত পূর্ণ্যার্থীরা।

এর পরে রাতব্যাপী সুতা থেকে প্রথমে তুলার বীজ বোনা হয়। পরে তুলা সংগ্রহ করা হয়, তা থেকে সুতা কাটা হয়। সেই সুতায় রং করা হয় গাছ-গাছড়ার ছাল বা ফল থেকে তৈরি রং দিয়ে, এবং সবশেষে নানা আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ এক দিনের ভিতর তৈরি করা হয় এই ত্রি-চীবর।

উল্লেখ্য, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপূণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রং করণ, বয়ন ও সেলাই শেষে চীবর (বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র) দানকার্য সম্পাদন করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে মহাদানযজ্ঞ সম্পাদন করার কারণে বৌদ্ধরা এই ধর্মীয় উৎসবকে ‘দানোত্তম কঠিন চীবর দান’ বলে।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় পরম পূজনীয় পরিনির্বাণপ্রাপ্ত শ্রীমৎ বনভান্তে রচয়িতা ‘জয় জয় বুদ্ধের পতাকা’ সঙ্গীত ও উদ্ভোদনী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন তক্ষশিলা বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মীরণ খীসা এবং প্রদান করেন নির্বাণপুর বন বিহার কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জ্যোতিষার মহাস্থবির।

এইসময় অনুষ্ঠান মঞ্চে সঙ্ঘ প্রধান হিসেবে উপবিষ্ট ছিলেন, নির্বানপুর বন বিহার কেন্দ্রর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জ্যোতিষার ভান্তে, শ্রীমৎ দেবানন্দ মহাস্থবির, তক্ষশিলা বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ করুনাবদ্ধন মহাস্থবির, শ্রীমৎ মহামিত্র মহাস্থবির, জুড়াছড়ি বেনুবন অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ পন্থক মহাস্থবির সহ বিভিন্ন বিহার থেকে আমন্ত্রিত ভিক্ষু সঙ্ঘ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দানের মধ্য বুদ্ধ মূর্তি দান, সঙ্ঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, পিন্ডদান, কল্পতরু দান, আকাশ বাতি ও হাজার বাতি উৎসর্গ সহ নানাবিধ দানের কার্য সম্পাদন করা।

বুদ্ধের অমৃতবাণী স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন, জুড়াছড়ি বেনুবন অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ পন্থক মহাস্থবির, শ্রীমৎ মহামিত্র মহাস্থবির, শ্রীমৎ দেবানন্দ মহাস্থবির, শ্রীমৎ করুনাবদ্ধন মহাস্থবির, শ্রীমৎ জ্যোতিসার মহাস্থবির।

শ্রীমৎ করুনাবদ্ধন মহাস্থবির ভান্তে দেশনা প্রদানকালে বলেন, ভগবান বুদ্ধ বলেছিলেন পৃথিবীতে ৪টি জিনিস (আগুন, সাপ, রাজপুত্র, ভিক্ষুসঙ্ঘকে) কখনো অবহেলা করতে নেই। এসময় তিনি এই ৪টি বিষয়ের বিশ্লেষণ করেন৷ এবং ধর্ম তত্বের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বিকাল পর্বে জীবন্ত চাকমা ও প্রজ্ঞা চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিপন চাকমা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য জ্যোতি প্রকাশ খীসা (প্রনয়), ৩নং বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা, ৪নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমল কান্তি চাকমা, ৪নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন দেওয়ান, ৭৮ নং বুড়িঘাট মৌজার হ্যাডম্যান কল্যাণময় খীসা, তক্ষশীলা বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মীরণ খীসা, সাধারণ সম্পাদক জীবন্ত চাকমা সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি ইলিপন চাকমা বক্তব্যে বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক ধর্মের প্রতি আন্তরিক। এই বারের কঠিন চীবর দানে তিনি নিজস্ব ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে নানিয়ারচরে ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন। একি সাথে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নানিয়ারচরে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।
এই সময় ইলিপন চাকমা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং জননেতা দীপংকর তালুকদার এমপি সহ রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সহ সকল সদস্য ও সকল কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

দিনব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে দূর দূরান্ত থেকে পূণ্য সঞ্চয় করার জন্য হাজার হাজার পূণ্যার্থীর বিহারে সমাগম ঘটে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ বিবিসি নিউজ ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD