1. admin@bbcnews24.news : admin :
বরকলের ভুষনছড়াতে ৩৭তম গণহত্যা দিবস পালিত - BBC NEWS 24
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বকশীগঞ্জ বিপুল সংখ্যক কর্মীসমর্থক নিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন -মেয়র নজরুল পরিকল্পনা মন্ত্রীর নির্দেশে নান্দাইলে যানজট নিরসনে উচ্ছেদ হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হালুয়াঘাটে আ.লীগ নেতাকর্মীদের সাথে আনন্দ উৎসব ও মতবিনিময় মেলান্দহে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড আয়োজনে মতবিনিয়ন সভা অনুষ্ঠিত হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান এর মতবিনিময় ভালুকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিসে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ মিরসরাইয়ে দুই ইটভাটাকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা ভালো বই যে কোন সময় যে কোন মানুষকে আমূল বদল দিতে পারে : আর.সি.পাল শেরপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৯ শিক্ষককে অব্যাহতি, ২০ পরীক্ষার্থী বহিস্কার

বরকলের ভুষনছড়াতে ৩৭তম গণহত্যা দিবস পালিত

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • সময় : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
  • ৪০৭ বার পঠিত

আরিফুল ইসলাম,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ আজ ৩০ মে, ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস।৩৭ বছর পরেও দিনটি ভুষনছড়াবাসীর জন্য অতঙ্করে একটি স্মৃতি।পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এবং ভয়াবহ হত্যাকান্ডটি হচ্ছে ভূষণছড়া হত্যাকান্ড।

আজ থেকে ২৮ বছর আগে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার বাঙ্গালীরা এই নির্মম গণহত্যার শিকার। সম্ভবতঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস ঘাটলেও এত বড় ধ্বংস যজ্ঞের আর কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী পাষন্ডরাও এখানে এমন জঘন্যতম ঘটনার জন্ম দেয়নি। যে ঘটনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে হত্যা করা হয়েছে চার শতাধিক মানুষ । এবং আহত করা হয়েছে আরও সহস্রাধিক মানুষ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একটি জনপদ।

১৯৮৪ সালের ৩০ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা ৩০মিনিট পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে কলঙ্ক জনক অধ্যায় ভূষণছড়া গণহত্যা।

ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারী নিস্ক্রিয়তায় ভীত সস্ত্রস্ত অনেক সেটালারই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে, নৌকা ও সাম্পানে চললো তল্লাশী ও আটকের প্রক্রিয়া।

তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো ঐ জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তোড়জোড়। খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই্ চারিদিকে কেবল পঁচা লাশের দুর্গন্ধ, পালাবারও পথ নেই। নিরূপায় জীবিতরা, লাশ গোজানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই । দয়া পরবশ কর্তৃপক্ষ, কিছু আর্থিক সহযোগীতায় এগিয়ে এলন । এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কি? পেটে খেলে পিটে সয়, এ যেন তাই।’’

ভূষণছড়া এবং প্রিত্তিছড়ায় সেদিন কোন মানুষকে জীবিত পাওয়া যায়নি। জীবিত পাওয়া যায়নি কোন পোষা প্রাণীকেও। সেদিনের কিছু প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় অগ্নি দগ্ধ বিরান ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র কুকুর। আর ছবির ক্যাপশন এ লেখা ছিলো Bhushanchara: Only the Dog was left Alive।

দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য এই যে, এধরণের অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙ্গালীরা। কিন্তু বাঙ্গালীদের উপর সন্ত্রাসী কর্তৃক সংঘটিত এসব নির্যাতনের চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমতো দূরের কথা দেশীয় প্রচার মাধ্যমেও স্থান পায়নি। দেশে তখন সামরিক শাসন ও সংবাদ প্রচারের উপর সেনসার ব্যবস্থা আরোপিত থাকায় এবং পাহাড়ের অভ্যন্তরে যাতায়াত ও অবস্থান নিরাপদ না হওয়ায় অধিকাংশ গণহত্যা ও নিপীড়ন খবর হয়ে পত্র পত্রিকায় স্থান পায়নি।

আর এই সুযোগে নির্যাতনকারী উপজাতীয়রা নিজেদের নৃশংসতার স্বরূপকে ঢেকে তিলকে তাল করে নিজেদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে বিশ্বব্যাপী। এতে দুনিয়াব্যাপী ধারণা জন্মেছে যে, পার্বত্যাঞ্চলের উপজাতীয়রাই নির্যাতনের শিকার। যার ফলে দেশ এবং সরকারের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জনকারী সেনাবাহিনীর চরিত্রেও কলঙ্ক আরোপিত হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীরা একদিকে নির্মম হত্যাকন্ডের শিকার হবে অন্যদিকে উপজাতীয়দের অপপ্রচারে নির্যাতনকারী হিসেবে পরিচিত হবে আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে এমন ব্যবস্থা চিরদিন চলতে পারে না ।

তাই সরকারের আশু কর্তব্য হচ্ছে মেজর মনি স্বাপনদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ভূষণছড়া গণহত্যাসহ পার্বত্য অঞ্চলের সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের প্রকৃত বিচারের মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব। এর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব দেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা রয়েছে।

রয়েছে জাতি সংঘের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থাও। আমেরিকার মত প্রবল শক্তিধর সেনাবাহিনীও যখন ইরাকে বন্দী নির্যাতন করে পার পায়নি। আমাদের দেশেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের বিচার চলছে। তা হলে, স্বাধীন দেশে পার্বত্য অঞ্চলে যারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে তাদের কেন বিচার হবে না? পার্বত্যাঞ্চলের এসব অপরাধীর বিচারের ব্যাপারে কোন প্রকার বাধা থাকতে পারে না।

আর থাকলেও তাকে ন্যায় সঙ্গত বাধা হিসাবে আখ্যায়িত করার কোন সুযোগ নেই। সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়ন করতে হলে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে প্রশ্রয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা বিদ্রোহীরা ক্ষমার দৃষ্টিকে কখনই সরকারের উদার দৃষ্টি ভঙ্গি হিসাবে দেখে না। তারা একে সরকারে দুর্বলতা হিসাবেই গ্রহণ করে থাকে। এবং সঠিক পথে ফিরে আসার পরিবর্তে তারা বরং আরো বেশি করে অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার উৎসাহ বোধ করে। সব শেষে আতিক সাহেবের ভাষাতেই বলতে চাই ‘‘এই নৃশংসতা বিনা বিচারে পার পেয়ে গেলে, এটি অপরাধ ও দন্ডনীয় কুকর্ম বলে নজির স্থাপিত হবে না। এটা হবে আরেক নিন্দনীয় ইতিহাস।’’

দিনটি স্মরন করতে গিয়ে ভুষনছড়াতে আজ ইউপি চেয়ারম্যান মো মামুনর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো জুয়েল রানা,বরকল থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী জসিম উদ্দিন,পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মো আলমগীর কবির, এবং রাঙ্গামাটি জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারন সম্পাদক মো সোলাইমান,মোর্শেদা বেগম,ছিদ্দিক ব্যাপারী,ছবুর তালুকদার,আবু সাইদ,আব্দুল্লাহ আল হেলাল সহ আরো অনেকে।

এসময় নিহতে আত্নীয়রা বর্বরোচিত সেই হত্যার বিচার দাবী করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ বিবিসি নিউজ ২৪
Theme Customized BY Shakil IT Park