1. admin@bbcnews24.news : admin :
মহাকবি মাইকেলের স্মৃতি রক্ষার্থে মৃতপ্রায় কাঠবাদাম গাছটির পাশে পুনরায় গাছের চারা রোপণ - BBC NEWS 24
বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গিটার পাগল রোমো রোমিওর এগিয়ে চলা গাজীপুরে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার এক মীরসরাইয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ মিরসরাইয়ের মঘাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মীরসরাইয়ে আরশিনগর ফিউচার পার্কে ৮ দিনব্যাপী লালন ও বাউল উৎসব শুরু বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে পিজিতের মিউজিক্যাল ফিল্ম”ভুল” বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৪বছর পূর্তি উপলক্ষে দিবসটি পালন করলো লংগদু সেনা জোন ৫ মাসের অপহৃত শিশু উদ্ধার- আসামী গ্রেফতার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য যুবলীগ নেতা নোবেলের শুভ কামনা পার্বত্য চুক্তির দুইযুগ পূর্তি: পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কাঙ্খিত শান্তি ফিরেনি

মহাকবি মাইকেলের স্মৃতি রক্ষার্থে মৃতপ্রায় কাঠবাদাম গাছটির পাশে পুনরায় গাছের চারা রোপণ

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • সময় : বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ২২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদ পাড়ে কবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছটি মৃতপ্রায় দেখে কবির স্মৃতি রক্ষার্থে ও ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে স্মৃতি ধরে রাখতে মানবিক চিন্তা-চেতনায় গাছটির পাশে পুনরায় আরো ২টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত এআইজি মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমানের নির্দেশনায় গত ২৭ অক্টোবর (বুধবার) বিকালে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বোরহান উদ্দীন ওই কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন।

‘সতত হে নদ তুমি পড়ো মোর মনে, সতত তোমারী কথা ভাবি এ বিরলে’ কবিতার অমর স্রষ্টা বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার আলোকবর্তিকা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁরই জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদ পাড়ে কবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছ ও বিদায় ঘাট মধুপ্রেমী দর্শনার্থী, পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে নিরন্তর।
তারই ধারাবাহিকতায় মহাকবির স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ পাড় ও মধুপল্লী ৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত এআইজি মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান। এ সময় মহাকবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছটি মৃতপ্রায় দেখে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই কাঠ বাদাম গাছটি ঘিরে কবির অনেক স্মৃতি রয়েছে। কবি যখন ১৮৬৮ সালে সপরিবারে সাগরদাঁড়ি এসেছিলেন তখন ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে জ্ঞাতিরা তাকে বাড়িতে উঠতে দেয়নি। তিনি তখন ওই কাঠ বাদাম গাছের নিচে তাঁবু খাটিয়ে ১৪ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং সেখান থেকেই কপোতাক্ষ নদের বিদায় ঘাট হতে কলকাতার উদ্দেশে বজরায় উঠেছিলেন। মহাকবির স্মৃতি রক্ষার্থে ও ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে ধরে রাখতে মানবিক চিন্তা-চেতনায় মৃতপ্রায় গাছটির পাশে নতুন করে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বোরহান উদ্দীনকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তারই দিক-নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি মোঃ বোরহান উদ্দীন গত ২৭ অক্টোবর (বুধবার) বিকালে থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক পিন্টু লাল দাস সহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে কপোতাক্ষ নদ পাড়ে কবির স্মৃতি বিজড়িত মৃতপ্রায় কাঠবাদাম গাছের পাশে নতুন করে ২টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন। শুধু তাই নয় ! পুনরায় গাছ দুটির পরিচর্যা ও দেখ-ভালের জন্য নিজে আবারও পুলিশ ফোর্স নিয়ে গত ২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে পরিচর্যা করছেন এমন দৃশ্য সরজমিনে সাংবাদিকদের নজরে আসে। তারই একান্ত প্রচেষ্টা ও পরিচর্যায় গাছ দুটি এখন সবুজ পাতা অঙ্কুরিত করে সবুজের সমারহে বেড়ে উঠছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত এআইজি মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সাহিত্যের গতানুগতিক আদর্শ উৎখাত করে নতুন আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবাবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই আজকের বাংলা কাব্যের আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে। মহাকবির স্মৃতি বিজড়িত জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি বেড়াতে আসার জন্য আমার খুবই ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছা পুরণে এখানে এসে কবির পৈত্রিক ভিটা, ব্যবহৃত আসবাপত্র, লাইব্রেরী ও এখানকার পরিবেশ দেখে খুবই ভালো লেগেছে। তবে, কপোতাক্ষ নদ পাড়ে কবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছটি মৃতপ্রায় দেখে কিছুটা হতাশ হয়েছি। কবির স্মৃতি রক্ষার্থে ও ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে স্মৃতি স্বরুপ ধরে রাখতে মানবিক চিন্তা-চেতনায় মৃতপ্রায় গাছটির পাশে পুনরায় কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করার ইচ্ছা পোষণ করি।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বোরহান উদ্দীন বলেন, বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার আলোকবর্তিকা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। আমি মনে করি, মহাকবির স্মৃতি ধারণ, লালন-পালন করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব-কর্তব্য। তার উদ্ভাবনী লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য এক নবরুপ পেয়েছে। এই ক্ষণজন্মা পুরুষ বিশ্বের বুকে বাংলা সাহিত্যকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। মহাকবির স্মৃতি রক্ষার্থে ও ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে স্মৃতি স্বরুপ ধরে রাখতে মানবিক চিন্তা-চেতনায় বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত এআইজি মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান স্যারের নির্দেশনায় মৃতপ্রায় গাছটির পাশে পুনরায় আরো ২টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হয়। স্যারের এই মহতি উদ্দ্যেগকে আমি সাধুবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার আলোকবর্তিকা মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী গ্রামে এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাংলা সাহিত্যের এ ক্ষণজন্মা পুরুষ ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে অর্থাভাবে মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ বিবিসি নিউজ ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD