1. admin@bbcnews24.news : admin :
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর ইসরাঈল মৃধার নীল নকশায় বলির পাঠা নিরপরাধ হাবিলদার - BBC NEWS 24
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর ইসরাঈল মৃধার নীল নকশায় বলির পাঠা নিরপরাধ হাবিলদার

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০২২
  • ২২৩ বার পঠিত

হুমায়ন কবির রাব্বি ঃ২৩ মার্চ বুধবার গভীর রাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে সেলডিপো হতে বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ মালামাল চুরির দায়ে দুই জন কে আটক করা হয়। এর পূর্বেও ১৯ ও ২০ মার্চ রাতে পাহাড়তলী সেলডিপো হতে বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র একের পর এক ঘটিয়ে আসছিলো এ সকল চুরির ঘটনা।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর জেনারেল চৌকির আওতাধীন পাহাড়তলী স্টেশনে দায়িত্বরত হাবিলদার কৃষ্ণ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠে আসে ৫০০ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ। আটককৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাবিলদার কৃষ্ণ কে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দেয় বলে জানানোর পরপরই আরএনবি ট্রেনিং সেন্টারে ক্লোজড করা হয় হাবিলদার কৃষ্ণ চক্রবর্তী কে।

‘চুরির ঘটনাটি পাহাড়তলী স্টোরের আওতাধীন সেল ডিপো’তে ঘটলেও, শাস্তি পেতে হচ্ছে জেনারেল সেকশন আরএনবি চৌকির আওতাধীন পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী কৃষ্ণ চক্রবর্তী কে। ঘুষ দিতে হলে তো চোর স্টোরের স্টাফদের ঘুষ দিবে। কৃষ্ণকে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কৃষ্ণকে ফাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ আরএনবি’র বিশ্বস্ত সূত্র হতে এমন তথ্য আসলে উক্ত তথ্য সমূহের উপর ভিত্তি করে অনুসন্ধানে নামে বিবিসি নিউজ ২৪। অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য, বেরিয়ে আসে ঘটে যাওয়া গোপন করে রাখা পৈশাচিক নির্যাতনের কিছু ভিডিও চিত্র।

গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে প্রথম আটককৃত আসামি আকরামের উপর চালানো হয় পৈশাচিক নির্যাতন। তাকে বাধ্য করা হয় কৃষ্ণ চক্রবর্তী কে টাকা দেওয়ার কথা বলতে। সে যদি না বলে তবে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে প্রাণ নাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ফেলে দেওয়া হয় আকরামের পায়ের নখ। সে রাতের পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও বিবিসি নিউজ ২৪ এর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অভিযুক্ত আকরাম জামিনে মুক্তি পেলে জানতে পারা যায় সেই সকল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে আকরাম বিবিসি নিউজ ২৪’কে জানায়,❝সেদিন রাতে আমাকে স্ক্রাব কলোনির আমার ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায় স্টোরের চীফ ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃৃধা, হাবিলদার আনোয়ারসহ আরোও ২ জন হাবিলদার। আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সেলডিপুর ভিতরে।

এর পর বাতি বন্ধ করে আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পিটাইতে পিটাইতে একটার পর একটা লাঠি ভাংছে। ৬/৭টা লাঠি ভাংগার পর আমাকে এসএস এর পাইপ দিয়ে পিটানো হয়, এরপর হাবিলদার আনোয়ার আমাকে জোড় পূর্বক বলে, কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি তুই কৃষ্ণ আর হাফিজ কে টাকা দেস, যদি না বলস তোকে মেরে ফেলে দিবো। এখন মারলে কেউ দেখতেও আসবে না, হাত পা বেধে ফেলে দিবো। যেই আসুক তুই বলবি তুই কৃষ্ণ আর হাফিজকে টাকা দেস। আর সিআই স্যার হাসতেছিলো । আমি সেই রাতে তাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে তাদের কথা মেনে নিয়েছিলাম। আমার সাথে হাবিলদার কৃষ্ণর সাথে কথা হয় না কয়েক বছর হয়ে গেছে।❞ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টোর শাখার আরএনবি হাবিলদার জানান, আমাদের সিআইর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তার কিছু হয় না আর ৫০০ টাকার অভিযোগে তদন্ত ছাড়াই মুহুর্তেই হাবিলদার ক্লোজ। বিষয়টা সিআই পরিকল্পিত বুঝায় যায়।

উল্লেখ্য যে, অসংখ্য অভিযোগের পরও বিশেষ ক্ষমতায় একই পদে বহাল চিফ ইন্সপেক্টর ইসলাম মৃধা। ২০২০ সালের ২৭ই জুন সেলডিপুতে রেলের মালামাল পাচারের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়। পরদিন আটকৃত আসামীদের একজনকে ছেরে দেয় ইসরাইল মৃধা। আসামী ছেরে দেয়ার অভিযোগে ইসরাইল মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই বিশেষ ক্ষমতাবলে একই পদে বহাল থাকেন তিনি। এরপর থেকে থেমে নেই রেলের মালামাল চুরির ঘটনা। শুধু চুরির ঘটনায় ক্ষান্ত নয়, নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য কর্মস্থলে উপস্থিত না হয়ে বাসায় বসেই বেতন নিতে সহযোগিতা করেন তিনি। মাসিক ৭/৮ হাজার টাকা ইসরাইল মৃধাকে দিলেই মিলে বাড়তি এই সুবিধা। এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুহু আগেই বেধে দেওয়া সময় অতিক্রম হয়ে গেলেও এখনোও পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন নি তদন্ত কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ বিবিসি নিউজ ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD